#হাবিজাবি_৮৯
Novel corona virus সংক্ষেপে 2019-nCoV, ১৯ এর শেষের দিকে যার অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। চেহারা সুরতে একদমই নতুন, না SARS, না MERS, তাই এটা Novel বা নতুন corona!
Corona virus infection এ কমন ব্যাপারটা হল respiratory symptoms থাকবে।
হাঁচি-কাশি
জ্বর
শ্বাসকষ্ট
অনেকটা common cold, coryza বা সাধারণ viral fever এর মত। কিন্তু এটা সাধারণ জ্বরজনিত শ্বাসকষ্ট থেকে অনেক সময়ই অসাধারণ অবস্থার দিকে চলে যেতে পারে, হতে পারে মৃত্যু! সর্বশেষ যতটুকু জানি, মৃতের সংখ্যা ১০৬!
চাইনিজ ডেলিকেসি বলে একটা কথা আছে। তারা এমন কিছু খাবার খায়, যেগুলোর নাম শুনলেই পেট গুলিয়ে বমি আসবে। সাপ, ব্যাঙ, বাঁদুর, টিকটিকি, আরো কত কি। অল্প সেদ্ধ শুকর, অক্টোপাস, আরো কত হাবিজাবি। ধারণ করা হচ্ছে এরকমই কোন কোন সাপ বা বাঁদুর এর সুঃস্বাদু, না বিঃস্বাদ ডেলিকেসি থেকে এ ভাইরাসের উৎপাত!
তাই খাবারের ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইদানিং কাঁচা বা অল্প সিদ্ধ খাবার আমরাও কম খাই না। এই শীতকালে বার বি কিউ খুব চলে, এটা অল্প সিদ্ধ হলে না খাওয়াই ভাল। যদিও কখনো খাইনি, জাপানিরা অনেক খায়, আর আমাদের দেশেও ইদানিং চলছে বেশ, সেই কাঁচা মাছের সুশি খাওয়ার ক্ষেত্রেও সাবধান!
মাছের বাজারে মাছ তাজা নাকি বাসি, এটা দেখতে অনেকেই হাত দিয়ে মাছের চোখ নাক মুখ টিপেটিপে টেস্ট করি। এতে দোষের কিছু নাই, কিন্তু অবশ্যই বাসায় ফিরে যত দ্রুত সম্ভব হাত সাবান পানি দিয়ে হাত পরিস্কার করতে হবে।
যে কোন অসুস্থ প্রাণী থেকে যতটা দূরে থাকা যায় ততই ভাল, আর এসব প্রাণী খাওয়ার ক্ষেত্রে তো অবশ্যই সাবধান। গ্রামে এটা বেশি দেখা যায়, যে মুরগীটা একটু বেশি ঝিমায়, ওটা মরে যেতে পারে এই ভয়ে ওটাকেই জবাই করে খায়। ভাল হয় এমন পশু না খাওয়া। তবে যা কিছু যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, অবশ্যই ভাল করে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট শীতকালে বেশ স্বাভাবিক ব্যাপার। অনেকেই এ সমস্যায় ভোগে। তাই এগুলো দেখলে প্যানিকড হওয়ার কিছু নাই। বরং যেটা করতে হবে এসব ব্যাপারে স্বাভাবিক সতর্কতা মেনে চলতে হবে। যেমন মাস্ক ব্যবহার করা। একই মাস্ক অনেকদিন ব্যবহার না করা। টিস্যু ব্যবহার করা, ব্যবহার শেষে সেগুলো যত্রতত্র না ফেলে যথাস্থানে ফেলা। মাস্ক, টিস্যু, রুমাল না থাকলে হাঁচি কাশির সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে, আর তারপরই সাবান পানি দিয়ে ভাল করে হাত ধুঁতে হবে, বা এলকোহল সল্যুশন দিয়ে হাত জীবানুমুক্ত করতে হবে।
অনেকেই খাওয়ার আগে হাত অতটা ভালভাবে ওয়াশ করে না, যতটা ভালভাবে হাতের তেল পরিস্কার করে খাওয়ার পর! অবশ্যই এ অভ্যাস পরিবর্তন করে উল্টোটা করতে হবে। বাথরুম শেষেও ভালভাবে হাত পরিস্কার করতে হবে। এক কথায় প্রোপার হাইজিন মেনে চলার কোন বিকল্প নাই। এতে নিজে যেমন ভাল থাকা যাবে, তেমনি রেসপিরেটরি ড্রপলেট বা সিক্রেশন যার মাধ্যমে একজন থেকে আরেক জনে এই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনাও কমে যাবে।
আমরা জাতি হিসেবে চাইনিজদের মত উন্নত না হলেও ওদের থেকে সৌভাগ্যবান! ওদের মত বিজায়ার ফুড খাওয়ার অভ্যাস আমাদের নেই বললেই চলে। তাই ঝুঁকি আমাদের অনেকটাই কম। কিন্তু ঝুঁকি অন্য জায়গায়!
কাজের খাতিরে আমাদের দেশে প্রচুর চাইনিজ নাগরিকের বসবাস। তাদের যাতায়াত এতটাই বেশি যে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ফ্লাইট সরাসরি তাদের বেশ কয়েকটি সিটিতে ম্যুভ করে। এছাড়া আমাদের দেশের হাজারো মানুষ হাজারো ব্যবসার কাজে প্রতিনিয়ত সেখানে যাচ্ছেন আসছেন। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই তাসের পূর্ণ পার্সোনাল হাইজিন মেইনটেইন করা ও সেখানে যেয়ে খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা আবশ্যক।
সচেতনতা, সতর্কতা এগুলো খুবই জরুরী। এটা শুধু Novel corona virus এর ক্ষেত্রেই না, অধিকাংশ রোগ প্রতিরোধেই প্রয়োজন। সর্বস্তরে সবাই সবকিছু মেনে চললে এ রোগের বিস্তার অনেকটাই কমে যাবে, শীত শেষে আবারো আসবে বসন্ত...
ডা. কাওসার
ঢামেক, কে-৬৫
একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর, পোস্টগ্রাজুয়েট এডুকেশন, প্ল্যাটফর্ম একাডেমিয়া।