#হাবিজাবি_১০৭
বাংলাদেশ একটি ঘনবসতি পূর্ণ দেশ। পার স্কয়ার কিলোমিটারে মানুষ বাস করে ১১১৬ জন! অনেক বেশি!
SARS-CoV-2 যখন শরীরে ঢোকে, তার প্রথম উদ্দেশ্য থাকে সংখ্যা বৃদ্ধি করা। ভাইরাসের সংখ্যা double হতে সময় লাগে ৩-৬ দিন। এই সময় পরেই এটা symptoms তৈরি করে, secretion এ বের হয়। অন্য কাউকে infect করে।
একটা Hill বা পাহাড়ের সাথে যদি তুলনা করি, প্রথমে পাহাড়ের উঁচুতে উঠা, অর্থাৎ ৩-৬ দিন ধরে ভাইরাসের সংখ্যা বাড়ছে, body immunity activate হচ্ছে, immunity ও ভাইরাসের মধ্যে যুদ্ধ হচ্ছে, immunity জিতলে ১০-১৩ দিনের মধ্যে auto clearance of virus হচ্ছে, পাহাড় ঢালু হয়ে নিচে নেমে গেল, রোগী সুস্থ! কিন্তু যদি ভাইরাস জিতে যায়, তখন পাহাড়ের চূড়া থেকে ডিরেক্ট আসমানে, severe complications followed by death!
এবার একটু Ro (R not) সম্পর্কে জানি!
কোন একটা infectious disease, যেটি contagious, এক মানুষ থেকে অন্য কতজন মানুষে ছড়াবে সেটা নির্ভর করে Ro এর উপর।
Ro যদি ১ হয়, তার মানে একজন infected ব্যক্তি আর ১ জনকেই মাত্র সেই রোগ ছড়াতে পারে।
SARS-CoV-2 এর Ro হল ২-৩, (কেউ কেউ ৫ বলছে, কিন্তু not that reliable), অর্থাৎ একজন COVID-19 রোগী আরো ২ থেকে ৩ জনকেই শুধু তার রোগ ছড়াতে পারবে! (যদি না তারা immunized হয়।)
quarantine এ থাকার সুবিধা হল, একজন infected ব্যক্তি ২-৩ জনকে রোগ ছড়াতে পারবে না, সেই ২-৩ জনের প্রত্যেকে অন্য ২-৩ জনকে রোগ ছড়াতে পারবে না।
এরকম strict quarantine মেইনটেইন করতে হবে অন্তত ১৪ দিন। ( মতান্তরে ১০-১৩ দিন)
ধরুন, আমি SARS-CoV-2 পজিটিভ, আমি quarantine এ থাকা অবস্থায় আমার severe symptom ডেভেলপ করলো। আমার পরিবার বা কাছাকাছি যারা আছে তারা আমাকে সেবাযত্ন করবে, তারাও তখন infected হবে! এই imfected তাদের কেউ বাজারে গেল, সেখানে আরো ৫ জন বাজার করতে আসলো, তারাও infected হবে! আমাকে হাসপাতালে নেয়া হল, সেখানে যারা আমাকে চিকিৎসা করবে তাদের যদি proper protection না থাকে তবে তারাও infected হবে! সেখানে যে অন্য রোগের রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসে, তারাও তখন infected হবে, তাদের থেকে তাদের পাশ যে রোগীরা আছে তারাও infected হবে!
পুলিশ ব্যবহার করে বাজার বন্ধ করে দিচ্ছি, প্রশাসন দিয়ে খাবার বাড়তে পৌছে দিচ্ছি। এগুলো না হয় সম্ভব, কিন্তু একটি জায়গা বন্ধ করা সম্ভব না, সেটি হল হসপিটাল। COVID-19 রোগী complications নিয়ে আসবে, তাদের চিকিৎসা দিতে হবে। তাহলে কি করণীয়?
অলরেডি আমরা জানি কি করণীয়। উপরে যে যে অপশনগুলো হিসাব করে বললাম, খুবই ডিফিকাল্ট সেসব মেইনটেইন করা। পাশাপাশি শুরু থেকেই ছিল অপ্রতুল প্রস্তুতি medical personnel দের protection এর ব্যাপারে। আল্টিমেটলি ১৪ দিনের quarantine, lock down যেখানে virus replication ও spread কে slow down করার কথা, সেটি আর ঠিকভাবে হচ্ছে না।
যদিও অনুমান, তবুও ভয়ংকর সত্যটা হল ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে সরিয়ে পড়েছে, যার পিছনে মূল কারণ অনেকগুলো অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত, সেই বর্ণনায় আর না যাই। এখন কি করণীয়?
আসলে এখন খুব বেশি কিছু করণীয় নাই। নিচের পয়েন্টগুলো নিয়ে চিন্তা করুন,
★ strict quarantine, সাথে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দেয়া।
পারবেন খাবার পৌছে দিতে? আমাদের দেশে এটা এক কথায় অসম্ভব। তাই এটাও অসম্ভব strict quarantine মেইনটেইন করা। খাদ্যের সন্ধানে কিছু লোক বের হবেই। ক্ষুধার রাজ্যে যেখানে পৃথিবী গদ্যময়, করোনা সেখানে নস্যি!
★ কেউ হয়তো বলতে পারেন strict quarantine মেইনটেইন করতেই হবে, তবে আপনাকে যার মুখোমুখি হতে হবে সেটি করোনার চেয়ে কম ভয়ংকর না। প্রচুর মানুষ না খেয়ে মারা যাবে, অসুস্থতায় ভুগবে, কষ্ট করে হলেও হাসপাতালে আসবে, না আসতে পারলে বাড়িতে বা পথে মরে পরে থাকবে। যে সংখ্যাটা আসতে পারবে, তাতেই হাসপাতালের উপর বহুগুণ চাপ বাড়বে। সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তো বাড়বে। অর্থনীতি ফল করলে, যা কিছু খারাপ তার সবটাই ঘটবে!
তাই আল্টিমেটলি কাজের জন্য, খাদ্যের জন্য strict অবস্থা শিথিল করতে হতে পারে, সেটা further infection বাড়াবে, COVID-19 death বাড়াবে, কিন্তু other death কমাবে, herd immunity সৃষ্টি করতে পারে!
আমাদের কাছে এখন ভাল অপশন কম, sacrifice অপশন আছে কিছু! সে বর্ণনায় যাওয়ার আগে herd immunity নিয়ে কিছু কথা বলি।
herd immunity একটা deadly অপশন। এর বিকল্প অপশন vaccination. এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে যেহেতু vaccine নাই তাই ওটা নিয়ে কথা বলে লাভ নাই। যেনে নিই herd immunity কি?
যে কোন infection আমাদের শরীরে তার বিরুদ্ধে antibody তৈরি করে, আমাদের সুরক্ষা দেয় যদি সেটা যথেষ্ট হয়। আমরা যদি ওই infection এর বিরুদ্ধে immunized হয়, তখন আমাদের আর কোন ভয় নাই, ভয় নাই আমার থেকে তাই অন্য কারো ছড়ানোর। এটাই হল herd immunity.
একটি দেশে কোন রোগের herd immunity ডেভেলপ করতে হলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে infected হতে হবে। এই সংখ্যাটা এক এক রোগের জন্য এক এক রকম। নির্ভর করে Ro এর উপর!
উপরে জেনেছি SARS-CoV-2 এর Ro হল ২-৩, ধরুন ৩
এবার একটা ফর্মুলায় আসি,
Ro-1/Ro, অর্থাৎ ৩-১/৩=২/৩
অর্থাৎ একটি দেশের ৩ ভাগের ২ ভাগ মানুষকে এই রোগে আক্রান্ত হতে হবে, অর্থাৎ ৬৭%!
বাংলাদেশের জনসংখ্যা ধরি ১৭ কোটি, ৬৭% হল ১১ কোটি ৩৯ লক্ষ! এত বেশি মানুষকে infected হতে হবে herd immunity তৈরি করতে গেলে!
ধরুন কোন quarantine নাই, lockdown নাই, যে যার মত ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে, কাজ করছে। ১১ কোটি ৩৯ লক্ষ মানুষ infected হয়ে গেল! এদের মধ্যে হাসপাতালে আসার মত অবস্থা হতে পারে ১৫% এর মত, সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ ৮৫ হাজার। এই পরিমাণ মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার মত প্রস্তুতি আমাদের নাই। অবস্থা তাই কেমন দাঁড়াবে সেই বর্ণনায় না যাই।
১১ কোটি ৩৯ লক্ষ infected মানুষের মধ্যে ৫% এর ventilation সাপোর্ট লাগতে পারে, সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬ লক্ষ ৯৫ হাজার!
৫৬ লক্ষ বাদ দিই, ৯৫ হাজারও বাদ দিও, ৫ হাজার ventilator ও আমাদের নাই। এত রোগীর একসাথে তো ventilation লাগবে না, কিন্তু প্রতিবারে যে সংখ্যার ventilation প্রয়োজন হবে সেটাও কোনভাবে দেয়া সম্ভব না।
জোড়াতালি দিয়ে আপনি হয়তো হাজার পাঁচেক মানুষকে ventilation সাপোর্ট দিতে পারেন, কিন্তু বাকি ৫৬ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষকে আপনার বাধ্য হয়ে মরতে দিতেই হবে।
আর বাকি যে বড় সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি যাদের অনেকের mild to moderate symptoms ডেভেলপ করবে, তাদের কিছু সংখ্যক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবে, আগের সংখ্যার সাথে এই সংখ্যা যোগ হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি।
অর্থাৎ আমাদের দেশের জনসংখ্যা, আর্থ সামাজিক অবস্থা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি, সব মিলিয়ে herd immunity তৈরি করতে হলে ১ কোটি মানুষকে হারাতে হবে! সংখ্যাটা কত বিশাল, প্রতি ১৭ জনে ১ জন!
তাই herd immunity নিয়ে চিন্তা একদমই বাদ।
রাজার গোলাও কিন্তু এক সময় ফুরিয়ে যায়! যদি quarantine ও protection strictly একটা certain period পর্যন্ত মেইনটেইন না করতে পারি, তবে এই lockdown সরকারকে বাড়াতে হবে মাসের পর মাস। এতে যে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হবে তা সহজেই অনুমেয়! বাংলাদেশে শেষ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ১৯৭৪ সালে, তখন জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি, মানু্ষ ঘরবন্দি ছিল না, ছিল খাদ্যের অভাব, তাতে মারা যায় বেসরকারী হিসাবে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ। এখন খাদ্যের জোগান আছে, সাথে আছে অসম ডিস্ট্রিবিউশন, চাল-তেল চোররা তো আছেই, সবমিলিয়ে কিছুদিন পর খাদ্যের জোগান কতটুকু থাকবে জানি না। আর বর্তমানে জনগোষ্ঠী ১৯৭৪ এর ৩ গুণ। যারা সবাই lockdown, ভিক্ষা করতেও বাইরে বের হতে পারবে না! আল্লাহ না করুক ২০২০ এ যদি এমন কোন দূর্ভিক্ষ হয়, তাতে ৩*১৫=৪৫ লক্ষ না হলেও অন্তত ৩০ লক্ষ মানু্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে খাদ্যের অভাব ও তার সাথে সম্পর্কিত সামাজিক বিশৃঙ্খলায় মারা যাবে!
নদীর এপারে সুখ নাই, ওপারেও সুখ নাই। অপশন হয়তো নদীর মত অজানা গন্তব্যে বয়ে চলা!
ফাইনালি কি করণীয়?
★ সৎ ও বুদ্ধিমান নেতাদের দায়িত্ব দিন।
★ সৎ ও বুদ্ধিমান অফিসারদের দায়িত্ব দিন।
তারা দিনে ৩ বেলা না পারুক, ২ বেলা অন্তত সবার খাবার নিশ্চিত করুক।
বাংলাদেশে অনেক হাজার কোটিপোতি আছে, সরকারী কোষাগারে যে টাকা আছে, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যে বরাদ্ধ আছে সেসব দিয়ে খাদ্যশস্য কিনুন, কৃষক ও এর সাথে সম্পর্কিতদের খাদ্য উৎপাদনের সুযোগ দিন। প্রচুর এবং এবং প্রচুর পরিমাণ খাদ্য জেলাশহর থেকে শুরু করে স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যন্ত স্টক রাখুন। আর এই ৩ টি কাজ করুন,
★ একটানা ১৪ দিন strict lockdown and quarantine.
★ একটানা ১৪ দিন সবাইকে খাদ্য খাবার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
★ একটানা ১৪ দিন স্বাস্থ্যসেবার সাথে যারা জড়িত তাদের proper protection, positive রোগীদের proper isolation. পুলিশ, প্রশাসন, র্যাব, সেন আরো যারা বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকবে তাদেরও proper protection.
এর মধ্যে বর্তমানে যদি ১০ লাখ মানুষও আক্রান্ত থাকে, আর তার ৫% মারা যায়, সংখ্যাটা দাঁড়াবে ৫০ হাজার। একেবারেই কম না, কিন্তু ওই ১ কোটি বা ৩০ লক্ষের তুলনায় অনেক অনেক কম! যে বিপদে পড়েছি, যে ভুল করেছি, তার খেসারত তো কিছু দিতেই হবে...
দোয়া সবার জন্য। ভাল থাকুন সবাই।
ডা. কাওসার
ঢামেক, কে-৬৫
একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর, পোস্টগ্রাজুয়েট এডুকেশন, প্ল্যাটফর্ম একাডেমিয়া।
