#হাবিজাবি_১০৪
এক পাগলা ডাক্তার বলেছিলো 23°C এর উপরে করোনা বাঁচেনা! ওই ব্যাটার জানা উচিৎ ছিল, আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা 37°C, আর এই তাপমাত্রাতে কোষের মধ্যে viral replication হয়। বাইরের তাপমাত্রা যত মাইনাস থেকে প্লাস হোক, homeostasis mechanisms শরীরের ভিতরে একটি optimum temperature মেইনটেইন করে!
পাগলার বুঝা উচিৎ ছিল চায়না আম্রিকা ইউরোপের আবহাওয়া ঠান্ডা হলেও, ভাইরাস 37°C তাপমাত্রার শরীরে ঢুকে বেঁচে থাকে, সংখ্যা বৃদ্ধি করে, রোগ হয়, মানুষও মরে!
এবার আসি দিব্যজ্ঞানী বুদ্ধিজীবিকে নিয়ে - যিনি বাকৃবির প্রফেসর, আর তাকে প্রমোট ও প্রচারকারী একাত্তর টিভিকে নিয়ে! এইরকম থার্ড ক্লাস চ্যানেল বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টা নাই! পশু পাখির প্রফেসর পাগলের প্রলাপ বকে, আর একাত্তর সেটা ফলাও করে প্রচার করে 'ইথানল বাষ্পে করোনা মরে!' আমার খুব ইচ্ছা, ইথানল বাষ্প দিয়ে সাংবাদিকসহ ওনাকে কিছুক্ষণ নেবুলাইজ করি, কিছু পাগল কমুক পৃথিবী থেকে!
গালিগালাজ তো অনেক হল, এবার কাজের কথায় আসি। SARS-CoV-2 হল একটি animal species corona virus. এটি আমাদের শরীরে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (37°C) বেশ ভালভাবে বেঁচে থাকে, তাই এর বিস্তার বেশি। complications বেশি - যখন immunity কম থাকে!
অন্যদিকে human species of corona virus যা replicate করে 33-35°C তাপমাত্রায়। স্বাভাবিক শরীরে তাই তাদের replication কম, শরীরে ঢুকলেও অল্প কিছুদিনেই তারা মারা যায়, complication নাই বললে চলে, যেমন সাধারণ ফ্লু।
যা বলছিলাম, আপনার উদ্দেশ্য যদি হয় তাপ দিয়ে ভাইরাস মারবেন তবে আপনাকে যা করতে হবে, 57°C তাপমাত্রায় 15 মিনিট ধরে ভাইরাস সিদ্ধ করতে হবে! কারণ এই তাপমাত্রাতেই কেবল SARS-CoV-2 মরে!
ভাইরাস কিভাবে সিদ্ধ করবেন, ভাইরাস কি বাইরে থাকে সিদ্ধ হওয়ার জন্য! ভাইরাস থাকে আপনার কোষের মধ্যে। একটা ডিম হল একটা কোষ। এই কোষের মধ্যে ভাইরাস আছে। আপনি ডিম সিদ্ধ করছেন, ভেবে দেখুন তো কোষের কি কি পরিবর্তন হবে!
তাপের ফলে ডিমের প্রোটিনগুলো coagulated হয়ে, ডিমের আগের নরম অবস্থা পরিবর্তন হয়ে denatured হবে! ডিম তো কড়াইতে সিদ্ধ করে খেয়ে ফেলছেন, কিন্তু শরীর কিভাবে সিদ্ধ করে জীবাণুমুক্ত করবেন! সেটা কি সম্ভব?
শরীর কিন্তু মাঝেমাঝে নিজ থেকেই সিদ্ধ হয়! কিন্তু কিভাবে? যখন আমাদের জ্বর আসে। জ্বর কেন কিভাবে আসে? জ্বর আসা কি ভাল?
আমাদের শরীর স্রষ্টার এক অদ্ভুত সৃষ্টি। জ্বর আসা হল একটা protective mechanism. জ্বর আসলে শরীরের মধ্যে তাপমাত্রা বাড়ে। জ্বর আসছে - তাপমাত্রা বাড়ছে, এই তাপ ব্যবহার করে শরীর চেষ্টা করছে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশকৃত ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে।
তার মানে জ্বর আসাটা ভাল! তাহলে জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল খাই কেন? কারণ আমরা জানি excess of anything is bad! বেশি জ্বর আসছে, তাপমাত্রা বাড়ছে, এভাবে বাড়তে বাড়তে যখন 41°C/106°F এ চলে যায় তখনই হয় ঝামেলা!
106°F তাপমাত্রায় আমাদের cell এর membrane protein ও channel protein গুলো coagulated হয়, শুরু হয় ধ্বংস! এরপর coagulated হয় ভিতরের protein গুলো, ধ্বংস তখন মাঝপথে।
এই ধ্বংস যুদ্ধে রক্ষাকবচ হল Heat Shock Protein (HSP), যারা cell এর ভিতর ও বাহির দু জায়গাতেই থাকে। Heat এর ফলে cell এর যখন এই মরণদশা, তখন cell এর মধ্যের HSP চেষ্টা করে coagulated protein গুলোকে মেরামত করতে, বেশি তাপমাত্রা অব্যহত থাকলে এই কাজটা সে করতে পারেনা। তখন কি আর করা, cell আগুনে পুড়ে যন্ত্রণায় কাতরায়, এদিকে HSP তাকে সুস্থ করতে ব্যর্থ। শেষমেশ বাধ্য হয়ে তার কষ্ট কমাতে cell এর মাথায় HSP ঠুস করে একটা গুলি করে - অর্থাৎ Apoptosis triggered হয়, finally হয় cell death!
ওদিকে তখন cell এর বাইরের দিকের যে HSP ছিল, সেও ব্যর্থ। সেও তখন বাধ্য হয়ে cell হত্যার পরিকল্পনা আঁটে, ভাড়া করে পেশাগত খুনি Natural killer (NK) cell কে! NK এসে cell টাকে মেরে ফেলে!
এভাবে অনেক cell যখন গণহারে মরে, সেই রোগী তখন বাঁচে না, অক্কা পায়!
COVID-19 রোগীর High fever থাকে। ভাইরাসকে মারতে এই অদ্ভুত শরীরটা তাপমাত্রা বাড়াতেই থাকে, শরীরে বাড়ে IL1, IL6, TNF alpha সহ নানাবিধ cytokines. কিন্তু তাপমাত্রা ততটা বাড়ে না যতটা বাড়লে SARS-CoV-2 মরবে! কেননা আমাদের hypothalamus এর একটা temperature set point আছে, এর বেশি বাড়ার আর সুযোগ নাই, বাড়লেই সে অক্কা পাবে!
এই ভাইরাস তখনই মরতো যদি কারো জ্বর 132°F/56°C হত! 104°F জ্বরে যেখানে আমাদের অবস্থা কুপোকাত, সেখানে 132°F জ্বরে শরীর পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবো!
শরীরের ভিতরের জ্বরজনিত অবস্থা সম্পর্কে আমাদের ক্ষুদ্র ধারণা তো হল। এবার আসি বাইরে অবস্থা নিয়ে!
কেউ বলছেন, গরম বাষ্প নেন! কেউ আবার ইথানল বাষ্প! কি উজবুক অথর্ব অপদার্থের দল, মানুষ মারার ধান্দা সব!
আমি যে তাপমাত্রার বাতাসই নেই না কেন, আমাদের sinus system সেটাকে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ভিতরে ঢুকানো চেষ্টা করে। খুব কম তাপমাত্রা হলে তাপমাত্রা বাড়াবে, খুব বেশি হলে কমাবে।
এখন মনে করুন আপনি আপনার respiratory tract এ থাকা করোনা ভাইরাস মারতে 56°C তাপমাত্রার বাষ্প ভিতরে পাঠাতে চান, তাহলে আপনাকে যেটা করতে হবে তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রার বাষ্প ভিতরে পাঠাতে হবে, হয়তো 60-70°C! আর এই তাপমাত্রার বাষ্প airway তে পাঠালে উপরের থিওরি অনুযায়ী আপনার respiratory tract এর epithelial cell গুলোর external ও internal protein গুলো coagulated হয়ে cell death হবে, inhalation burn হবে, এতে হয়তো করোনা মরবে, কিন্তু traumatic cell death হওয়ায় activation হবে inflammatory cascade. তখন airway আরো narrow হবে, হবে ARDS! তখন COVID-19 হয়ে রোগী না মরলেও, মরে ভুত হয়ে যাবে ARDS হয়ে!
এবার আসি ইথানল বাষ্প নিয়ে। প্রফেসর এখানে তাপে না, এলকোহল দিয়ে করোনা মারতে চান! উনি কি জানেন না, respiratory epithelium আমার হাতের মত মোটা চামড়ার তৈরি না যে alcohol বাষ্প দিয়ে mucosal surface কে ঘষা দিলাম, আর ভাইরাস মরে ছাড়খার হয়ে গেল! বাকৃবির বুজুর্গু ভেটেরান হয়তো ভুলেই গেছেন, পশুপাখি আর মানুষ এক বস্তু না! ইথানল বাষ্প নিলে cell এর lipid bilayer গুলো আস্তে আস্তে damage হবে, cell wall damage হয়ে ইথানল cell এর ভিতরে ঢুকে cell এর internal organelles সহ virus কেও damage করবে। কিন্তু cellular damage এর জন্য হবে inflammatory cascade activation, উপরের মত ARDS, তারপর death!
সাতপাঁচ চিন্তা না করে কিছু আহাম্মক মানুষ মারার সহজ বুদ্ধি মিডিয়াতে প্রচার করছে। শাস্তি হিসেবে ডা. জাকিরাঙ্ক ও মিঃ প্রফেসর এ দুজনকে প্রথমে করোনা রোগীর swab sample নেবুলাইজ করানো হোক! তারপর ট্রিটমেন্ট হিসেবে একজনকে দেয়া হোক ফুটন্ত গরম পানির বাষ্প, আর অন্যজনকে ইথানল বাষ্প! RIP!!
ডা. কাওসার
ঢামেক, কে-৬৫
একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর, পোস্টগ্রাজুয়েট এডুকেশন, প্ল্যাটফর্ম একাডেমিয়া।
