#হাবিজাবি_১৩১
একটি সত্য গল্প।
এক জেলে বিল থেকে মাছ ধরে ঝুড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এসে বউকে বলে, 'মাছ রান্না করো। শরীরটা কেমন চুলকায়, গোছল করে আসি। তারপর ভাত খাবো।'
বউ ঝুড়ি ভর্তি মাছ উঠনে ঢালে। ঢালা মাত্রই জোরে চিৎকার। একটি সাপ কিলবিল করে ভিতর থেকে বের হয়ে আসে! চিৎকার শুনে শাশুড়ি দৌড়ে আসেন। দুজনে লাঠিপেটা করে সাপটাকে মেরে বাগানে ফেলে দেন!
সাপ মারা শেষে, শাশুড়ি বউকে বলেন, 'খবরদার, ঝুড়িতে সাপ ছিলো, ভুলেও এ কথা ছেলেকে বলো না!'
ছেলে গোসল সেরে আসে। আসার পরও একটু একটু গা চুলকানির কথা বলে। শরীরটা দূর্বল লাগে, 'মাছ ধরার পরিশ্রমের কাজ - তাই হয়তো এমন লাগছে' মা তাকে এই বলে বুঝান।
এরমধ্যে বউয়ের রান্না শেষ। সবাই মিলে খেতে বসছে। কথায় কথায়, বউ তার পেটের মধ্যে কথাটা আর চেপে রাখতে পারে না। বলেই ফেলে, 'ঝুড়ির মধ্যে সাপ ছিল!'
ছেলে শোনামাত্র অজ্ঞান!!!
আরো একটি গল্প বলি।
নাতি গেছে নানির বাড়ি বেড়াতে। কিছুদিন যেতেই তার শরীর চোখ হলুদ। শরীর দূর্বল, খাওয়ার রুচি নাই। নানি নাতিকে নিয়ে গেলেন পাশের গ্রামের ওজার বাড়ি। সেখানে চুনমাখা পানিতে নাতির হাত ভিজিয়ে পানিকে হলুদ বানানো হল! হলুদ জন্ডিস শরীর থেকে বের হয়ে গেছে এমন বিশ্বাসে নাতির শারিরীক দূর্বলতা আগের চেয়ে কিছুটা কমেও গেল! যদিও জন্ডিস কমতে আরো কিছুদিন লেগেছিল। নানির বিশ্বাস তার নাতিকে ওজাই সুস্থ করেছে!
আসলে এটা ছিল Hep A virus induced acute hepatitis, কোন চিকিৎসা ছাড়া অধিকাংশ সময় যা এমনিতেই ভাল হয়। কিন্তু অবস্থা দাঁড়ায়, 'ঝড়ে বক মরে, ওজার কেরামতি বাড়ে!'
যাই হোক, যে জন্য এ গল্পগুলো বলা,
রোগের উপর ওষুধের নির্ভরযোগ্য স্টাডিতে দুটো গ্রুপ থাকে,
একঃ study group
দুইঃ placebo group
study group কে ওষুধ কোম্পানির ওষুধ, ও placebo group কে আটার দলা খাওয়ানো হয়।
রাম দেশী বীর, Remdesivir!
রাম দেশী বীর হলেও, এই ওষুধ কোন বীরের পরিচয় দিয়েছে কি না তা পুরোপুরি প্রমাণিত নয়!
এটি এমন একটি antiviral যা অতীতে কোন ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করেনি। এখন হঠাৎ নতুন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটা কাজ করবে সেটা হুট করে বলা কঠিন!
Gilead pharmaceuticals, যারা এই ওষুধের রিসার্চ মলিকুল প্রথম তৈরি করে, তাদের বর্তমান ট্রায়ালে ১২৫ জন COVID positive রোগীকে এই ওষুধ খাওয়ানো হয়, যাদের মধ্যে ১১৩ জনের ছিল severe symptoms. ট্রায়াল শেষে তাদের বক্তব্য, ' অধিকাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে যায়, ২ জন মারা যায়, বাকিরা চিকিৎসাধীন।'
তাদের এই স্টাডিতে শুধুমাত্র স্টাডি গ্রুপ ছিল, কিন্তু কোন placebo group ছিল না! আর randomized placebo group ছাড়া এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে it works better than no drug at all.
তাই আমাদের এখনি এটা নিয়ে অতটা আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই।
বিখ্যাত অখ্যাত সহজলভ্য যে ওষুধই খান না কেন মনে রাখতে হবে we have no idea if those drugs do more harm than good in this new infection.
তাই এসব অপ্রমাণিত ওষুধের উপর অন্ধ বিশ্বাস বাদ দিয়ে প্রোপার সাপোর্টিভ থেরাপির দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশে খাতা কলমে মোট পজিটিভ ১১,৭১৯। আর মৃতের সংখ্যা ১৮৬। মারা গেছেন তারাই যাদের serious co-morbidities ছিল, বা যারা proper supportive management পায়নি।
টেস্টের অপ্রতুলতার জন্য পজিটিভ সংখ্যা যা দেখা যায় - আসল সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি, ধরে নিই এ সংখ্যা মোটামুটি ৩০,০০০। আর মৃতের খবর সহজেই মিডিয়াতে আসে, ধরে নিই যা আসেনি সেসব মিলে মোট ৩০০। সে হিসাবে এখন পর্যন্ত mortality rate মাত্র ১%!
প্রথম গল্পের ব্যাখা দিয়ে শেষ করি। সাপের মত এ ভাইরাসের কামড় খেয়ে যাদের রিপোর্ট পজিটিভ, mortality rate অনেক কম - সেভাবেই তাদের সাহস দিন। অযথা ওষুধ বাদ দিয়ে যথাযথ সাপোর্ট দিন। অধিকাংশই সুস্থ হয়ে যাচ্ছে, যাবে ইনশাআল্লাহ।
ডা. কাওসার
ঢামেক, কে-৬৫
