#হাবিজাবি_২১০
খুব ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে যেয়ে একবার অসুস্থ হই, অসুস্থ বলতে জ্বর। সারাদিন খালে বিলে ঘুরেছি, সমস্যটা সম্ভবত সে কারনেই। যাই হোক, আমার নানি আমাকে হুজুরের পানি পড়া খাওয়ান! কয়েকদিন পর ভাল হয়ে যাই! বড় হয়ে বুঝেছি এ ছিল আমার বিশ্বাসের ফল। এটি খেলে সুস্থ হবো এই বিশ্বাসে খেয়েছি, সুস্থ হয়েছি এমনিতেই, বিশ্বাস একে কিঞ্চিৎ তরান্বিত করেছে মাত্র।
ভারতের সবচেয়ে বড় মেডিকেল ইন্সটিটিউট All India Institute of Medical Science (AIIMS), Rishikesh এ নরেন্দ্র মোদি সরকারের উদ্যোগে ও Department of Science & Technology (DST) এর অর্থায়নে ১৪ দিনের একটি বিশেষ Trial শুরু হয়েছে COVID-19 রোগীদের উপর। Trial টি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) এর নথিভুক্ত (তাদেরই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়ার তথ্যমতে)।
কি দেখা হবে এই Trial এ?
COVID positive ২০ জন রোগীকে ২ দলে ভাগ করা হবে। ১০ জনের ১টি দলের রোগীদের উপর দু’সপ্তাহ ধরে নিয়মিত চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিয়মিত 'গায়ত্রী মন্ত্র' জপ করানো হবে উচ্চস্বরে! করানো হবে 'প্রাণায়ামের' মতো কয়েকটি যোগাভ্যাস!
বাকি ১০ জন পাবে শুধু নিয়মিত চিকিৎসা পদ্ধতি।
বিপদে পড়লে মানুষ খড়কুটোও আঁকড়ে ধরে, এটি হয়তো তেমন কিছু! গতবছর সবচেয়ে বেশি খড়কুটো Hydroxychloroquine আঁকড়ে ধরেছিল ইন্ডিয়া! ইন্ডিয়ার উদাহরণ টেনে খড়কুটো আকঁড়ে ধরার যুক্তিতে আমাদের দেশের অনেক চিকিৎসকও এটির ব্যপক ব্যবহার করেছে, কিন্তু দিনশেষে ফলাফল শূন্য!
এবার অন্য একটি উদাহরণ দিই। বাড়ির পাশে বড় নদীতে প্রায়শই সাঁতার কাঁটতাম, কিন্তু অল্পতেই হাঁপিয়ে যেতাম। খড়কুটো আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করতাম, তবুও ডুবে যেতাম! খড়কুটো আকঁড়ে লাভ হবে না বুঝলাম, শেষে দারস্থ হলাম ফুসফুসের কাছে, একদিন সফল হলাম ফুসফুস ফুলিয়ে দীর্ঘসময় ভেসে থাকতে। অবারিত জলরাশিতে এখন ক্লান্তিহীন ভেসে থাকতে পারি, পারি সাতার কাঁটতেও!
শেষ উদাহরণটি এজন্যই, নিজের উপর আস্থা রাখুন, নিজেকে সুস্থ রাখুন। স্রষ্টা কোন কিছু এমনিতেই ঠিক করেন না, যৌক্তিক চেষ্টা লাগে। স্রষ্টার উপর বিশ্বাস রেখে সুস্থ থাকার নিয়মগুলো মেনে চলুন, বদঅভ্যাস পরিত্যাগ করে ফুসফুস ভাল রাখুন। দিনশেষে, হালকা শরীরে ফুলানো ফুসফুসই করোনা সমুদ্রে আপনাকে ভাসিয়ে রাখবে! শুভকামনা।
ডা. কাওসার
ঢামেক, কে-৬৫