#হাবিজাবি_১০
#Acute_fatty_liver_of_pregnancy
তামান্না গর্ভবতী, সাত মাসে পড়লো কেবল। হঠাৎ কিছুদিন ধরে তার বেশ বমি ভাব পাচ্ছে এবং বমিও হচ্ছে, সাথে পেটে ব্যাথা, প্রসাবের রংটা হলুদ, চোখটাও কেমন হলুদ হলুদ। জন্ডিস হলো না তো আবার!
প্রেগনেন্সিতে Hep E খুব কমন এবং এটা ছড়ায় feco-oral route এ, যা acute hepatitis করে, করতে পারে relapsing hepatitis. সাধারণ অবস্থায় Hep E Hep A এর মতই সাধারণ Hepatitis করলেও প্রেগনেন্সিতে বেশ ভয়াবহ রূপে প্রকাশ পেতে পারে। এসব চিন্তা ভাবনা করে ডা. বকুল রোগীকে Hep E এর জন্য anti HEV করতে দিলো, রিপোর্ট নেগেটিভ।
Hep B এর prevalence আমাদের দেশে বেশ বেশি এবং গর্ভাবস্থায় পজিটিভ হলে ঝুঁকি থাকে বাচ্চারও, নর্মাল ডেলিভারির সময় birth canal দিয়ে যেতে পারে বাচ্চার শরীরে। সেই চিন্তা থেকে HBsAg ও করা হল, কিন্তু নেগেটিভ। সাথে anti HCV করা হল Hep C আছে কিনা দেখার জন্য। এটাও নেগেটিভ। খুব খারাপ Hep C এর একটা ভাল দিক হলো এটার ভাল ট্রিটমেন্ট আছে এবং Hep B এর মত birth canal দিয়ে বাচ্চার শরীরে যায় না, যদি না মায়ের HIV co-infection থাকে।
ওদিকে খাবার ও পানিবাহিত হিসেবে Hep A acute hepatitis করে প্রায়শই এবং আমাদের দেশে মোটামুটি কমন, যা আবার নিজে নিজেই অল্প দিনে ভাল হয়ে যায়, তাই anti HAV ও করা হল, এটাও নেগেটিভ!
মোটামুটি কমন যে virus গুলো viral hepatitis করে যেগুলো সবই নেগেটিভ। তাই সেসব চিন্তা বাদ দিয়া ডা. বকুল তার রোগীনির ব্যাপারে নতুন কিছু চিন্তা করা শুরু করলো। ভাইরাল সেরোলোজি তো অনেক হল, কিন্তু লিভারে অন্য কোন সমস্যা আছে কিনা সেটা দেখতে Prothrombin time (PT), S. bilirubin ও SGPT করতে দেয়া হল। সবগুলোই normal level থেকে বেশি!
লিভারের সমস্যা নির্ঘাৎ, কিন্তু কারণ কি? তার আগে মনে রাখা ভাল, লিভারের সমস্যায় প্রথমে যা বাড়ে তা PT, impaired bile salt formation এর কারণে vit K dependent factor গুলো কম তৈরি হয়, তাই PT বাড়ে। এরপর SGPT, তারপর bilirubin. ওদিকে bile salt এর ঝামেলার জন্য খাবার দাবার ঠিকমত absorption হবে না, যেগুলো large gut এ যেয়ে bacterial action এ তৈরি করবে প্রচুর NH3, যা রক্তে absorption হয়ে brain গিয়ে করতে পারে hepatic encephalopathy. অতিরিক্ত NH3 লিভারে গিয়ে urea তে রূপান্তর হবে, তাই elevated urate পাওয়া যায়, সেটাও সাময়িক। কারণ কিছুদিন পর লিভারের NH3 থেকে urea তৈরি করার ক্ষমতা কমবে, তখন NH3 অনেক বেশি বেড়ে গিয়ে encephalopathy আরো বাড়িয়ে দেবে!
লিভারের চেহারাখানা কি অবস্থায় আছে সেটা দেখতে একটা usg of HBS করতে এডভাইস দেয়া হল, দেখা গেল লিভারটা বেশ উজ্জ্বল সাদাটে, কমেন্টে লেখা fatty liver!
তাহলে কি এটা fatty liver of pregnancy, যা third trimester এ বেশি হয়, আর তামান্নার প্রেগনেন্সিরও এখন ৭ মাস চলছে! খাপে খাপ ময়নার বাপ আরো কিছু ইনফরমেশন মিলে যাচ্ছে, আর সেগুলো হল এটা তামান্নার ফার্স্ট প্রেগনেন্সি, আর fatty liver of pregnancy বেশি হয় first pregnancy ও multiple pregnancy তে। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হলো sex determination এ দেখা গেল বাচ্চাটা xy, male fetus carrier মায়েদের বেশি হয় এটা!
অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেল এটা fatty liver of pregnancy. পুরোটা নিশ্চিত হতে liver biopsy করতে হবে, সেখানে microvascular steatosis দেখা যাবে। যদিও খুব বেশি complication ডেভেলপ না করলে প্রেগনেন্সিতে liver biopsy করা হয় না, কারণ এটা self limiting reversible condition, ডেলিভারি শেষে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
তামান্নার এটা হওয়ার পিছনে কারণ কি? তামান্না কি পেটে বাচ্চা আসার পর বেশি fat খেয়েছে, বা alcohol drink করে fat বাড়িয়েছে? না, তেমন কোন history নাই! তেমনটা হলে এটাকে NAFLD বা AFLD বলা যেত, কিন্তু pregnancy itself এই ঘটনার কারণ! কিন্তু কিভাবে?
ফিটাসে long-chain acyl-CoA dehydrogenase (LCHAD) enzyme এর ঘাটতি হলে এই সমস্যাটা বেশি হয়! এই enzyme এর কাজ হল hepatocytes এর mitochondria তে beta oxidation of fatty acid এ হেল্প করা। কিন্তু এর ঘাটতি হলে beta oxidation ঠিকমত হয় না, ফলে normal fatty acid এর পরিবর্তে তৈরি হয় toxic fatty acid. এই toxic fatty acid বাইরে যেয়ে কোন কাজ করতে পারে না, তাই তারা hepatocytes এর মধ্যেই জমা থাকে, করে steatosis. আর এই steatosis এর কারণে liver তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না, liver function এ abnormality দেখা দেয়, তখন তাকে বলে steatohepatitis!
চিকিৎসা কি হবে?
তেমন কিছু না। যেহেতু সমস্যাটা ফিটাসের কারণে, তাই ফিটাস যত তাড়াতাড়ি পৃথিবীতে আসবে তত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে। তাই বলে কি ৩২ সপ্তাহে বাচ্চার ডেলিভারি করে ফেলবো? না তা নয়, কারণ acute fatty liver pregnancy তে খুব কম ক্ষেত্রেই fulminant liver failure ডেভেলপ করে, তাই ডেলিভারির নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করাই যায়, এবং এই সময়ের মধ্যে মায়ের যে সমস্যাগুলো হয় সেগুলো কেয়ারফুল মনিটরিং করে তার symptomatic চিকিৎসা করাই যথেষ্ট, যেমন বমির জন্য বমির ওষুধ, ব্যাথার জন্য সেই ব্যাথার ওষুধ, যা প্রেগনেন্সিতে সেফ।
ধন্যবাদ।
ডা. কাওসার
ঢামেক, কে-৬৫
