#হাবিজাবি_১৬৩
ভন্ড সাহেদের বউটা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তার symptoms বলতে দুইটা,
একঃ joint pain
দুইঃ skin rash
joint pain টাই তাকে বেশি পীড়া দিচ্ছে। আর তার স্বামী সাহেদ লোকটাও একদম সুবিধার না। বাইরে নেতা ব্যবসায়ী ফিটফাট, কিন্তু ভিতরে ভন্ড প্রতারক সদরঘাট! বাইরের লোকজনকে তো পিটায়ই, মাঝে মাঝে তাকেও ঘরে পিটায়! কি জানি, স্বামীর পিটুনি খেতে খেতেই তার joint pain ইদানিং বেশি বেড়েছে কিনা!
ব্যাথায় কাতর বউকে নিয়ে স্বামী সাহেদ হাজির হলো তার রিজেন্ট হাসপাতালে। বউকে বলে দিলো পিটানোর কথা ডাক্তারকে না বলতে, বিনিময়ে সে তাকে একটি ডায়মন্ড নেকলেস গিফট করবে। তার আবার প্রচুর টাকা। শুধু ভুয়া করোনা টেস্ট করেই গত ক'মাসে ইনকাম তার তিন কোটি। এরকম আরো কত যে ভুয়া ব্যবসা তার আছে তা আল্লাহ মালুম!
যাই হোক, তার হাসপাতালে কর্তব্যরত অল্প বেতনে খাঁটা ভাল ডাক্তার চেয়ারম্যানের মিসেসকে বেশ ভাল করে দেখে দিল। দেখেশুনে মনে হল SLE. তাকে সে তিনটি টেস্ট করতে দিল,
একঃ ANA
দুইঃ CBC with ESR
তিনঃ CRP
ANA: Positive
CBC: Lymphopenia, Thrombocytopenia
ESR: Raised
CRP: normal
রিপোর্টগুলো SLE এর পক্ষেই যায়। আর SLE হল সেই ব্যতিক্রম disease গুলোর একটি যেখানে inflammation থাকলেও, inflammatory marker CRP নর্মাল থাকে।
ANA বেশ sensitive test হলেও, এর specificity কম থাকায় ডাক্তার তাকে Anti-dsDNA করতে দিলো।
আগাগোড়া দুই নাম্বার লোক সাহেদ অন্য রোগীর বেলায় ভুয়া টেস্ট করে রিপোর্ট দিয়ে টাকা নিলেও বউয়ের বেলায় ঠিকঠাক reagent দিয়েই টেস্ট করলো।
Anti-dsDNA: Positive
সাহেদের বউয়ের ফাইনাল Dx হলঃ SLE.
এবার চিকিৎসার পালা। ভাল ডাক্তার তাকে ভাল চিকিৎসা দিলো,
একঃ তার acute pain কমানোর জন্য NSAID, অল্প ক'দিনের জন্য।
দুইঃ joint pain এর flare up prevent করতে Prednisolone 7.5 mg, কারণ রোগীর ওজন 75 kg. চলবে।
তিনঃ skin manifestations কমাতে Hydroxychloroquine 200 mg BD. চলবে।
ওষুধ খেয়ে সাহেদের বউ বেশ ভাল। খুশি হয়ে সাহেদ কোথায় ভাল ডাক্তারের বেতন একটু বাড়িয়ে দিবে, উল্টা ব্যবসা খারাপ এসব অজুহাতে কয়েক মাসের বেতই ঠিকমত দেয়না!
ঠিকঠাক বেতন না পেলেও ধৈর্য্য ধরে সেখানে কাজ করা ভাল ডাক্তার সাহেদের বউয়ের ফলো-আপ করতে তাকে একটি CBC with ESR করার পরামর্শ দিল,
CBC: আগের Lymphopenia, Thrombocytopenia নাই। রিপোর্ট নর্মাল।
ESR: আগের মত raised নাই। রিপোর্ট নর্মাল।
যাক বাবা বাঁচা গেল, SLE নিয়ন্ত্রণে। না হলে মাথামোটা বদরাগী সাহেদ ভাল ডাক্তারকেই দু'ঘা বসিয়ে দিতো এই বলে, 'কি মিয়া, আমার বউরে কি উল্টাপাল্টা চিকিৎসা দিছো?'
যাই হোক, এভাবে চলতে থাকলো। বেতন না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভাল ডাক্তার একদিন সাহেদ সাহেবের চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেল। হাসপাতাল চালাতে সাহেদ নিয়োগ দিলো নতুন এক ভুয়া ডাক্তার।
যাওয়ার আগে ভাল ডাক্তার ভন্ড সাহেদকে হুমকি দিয়েছিলো, 'তাকে দেখে নেবে, তার বিরুদ্ধে মামলা করবে।' ভিভিআইপি সাহেদ উল্টা ভাল ডাক্তারকে হুমকি দিছে, 'ওই মিয়া, চিনস আমারে? আমার ফেসবুক প্রোফাইল দেখছস? দ্যাশের ব্যাবাক ভিআইপি নেতা-খাতা পুলিশ-র্যাব আমলা সাংবাদিক যত যা আছে সব আমার ভাই ব্রাদার, পেয়ারের বন্ধু, জিগরি দোস্ত! আর আমি নিজেও কম নাকি? আমি অমুক কমিটির তমুক পদের উপ সাধারণ সম্পাদক! বেতন চাইছোস তো তোরে ক্লোজ করতে আমার সময় লাগবে মাত্র দুই মিনিট! তুই মামলা কি দিবি, তোর নামেই থানায় কইসা মামলা দিমু পাঁচটা! যা ব্যাটা ভাগ!'
মনের দুঃখে ভাল ডাক্তার ভেগে যায়।
দিন যায়, মাস যায়, সাহেদের বউয়ের একদিন বেজায় জ্বর আসে, সাথে কাশি আর বুকে ব্যথা শুরু হয়। আগের joint pain টাও কেন জানি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায়।
সময়টা আবার করোনা কাল। মোটাসোটা ভুড়িওয়ালা metabolic syndrome এ ভোগা সাহেদ ভয় পেয়ে যায়, মনেমনে ভাবে তার বউয়ের আবার করোনা হইলো না তো! স্বাস্থ্য সচেতন সাহেদ বউয়ের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে ঘুমায়! তার আবার বেজায় চারিত্রিক দোষ!
জ্বর, কাশি, ব্যথায় কাতর সাহেদের বউ সাহেদকে অনুনয় বিনয় করে কয়, 'ওগো, তোমার হাসপাতালে তো করোনা টেস্ট হয়। আমার টেস্টটা একটু করাও না প্লিজ!'
বউয়ের এই মামু বাড়ির আবদার শুনে তো সাহেদ হেসেই খুন! অদ্ভুত শয়তানি হাসি হেসে সে বউরে কয়, 'তুমি তো আমার মত বদমাইশের বউ হওয়ারই যোগ্য না! এই যে তোমারে মাসে মাসে দেই গয়না বেনারসি, টাকা দিই রাশিরাশি। এগুলো কি দিতে পারতাম যদি আমার হাসপাতালে ঠিকমতো রোগীর টেস্ট করাইতাম?' তোমার টেস্ট করাবো অন্য জায়গায়।
অন্য জায়গায় তার বউয়ের COVID টেস্ট হয়, রিপোর্ট নেগেটিভ।
সাহেদ হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। কিন্তু বউয়ের আবার জ্বর ব্যথা কেন হইলো সেই চিন্তায় তাকে নিয়ে হাজির হয় তার হাসপাতালের ভুয়া ডাক্তারের কাছে।
ভুয়া ডাক্তার, আগের সব রিপোর্ট টিপোর্ট দেখে মনে করে সে যে Prednisolone খাচ্ছে - এজন্যই তার immunosuppression হচ্ছে। তাই এতেই হয়েছে তার কোন secondary respiratory infection, আর এর ফলে তার জ্বর, বুকে ব্যথা।
ডাক্তার ভুয়া হলেও, চিন্তা কিন্তু একেবারে খারাপ না। কিন্তু রোগীর নিয়ন্ত্রণে থাকা গিড়ার ব্যাথাটাও যে বাড়ছে এটা নিয়ে সে আর বেশি দূর চিন্তা করেনা। সে তাকে দেয়,
একঃ Antibiotic (infection কমাতে)
দুইঃ NSAID (joint pain কমাতে)
তিনঃ রোগী তার SLE এর জন্য যে Prednisolone খাইতো, সেটা বন্ধ করে দেয় কারণ তার যে ধারণা এটার জন্য এই secondary infection.
যাই হোক, এসব ওষুধ খেয়ে রোগীর জ্বর, বুকে ব্যথা কিছুটা কমলেও joint pain বেড়ে যায় আগের চেয়ে বহুগুণ।
ব্যথায় কাতর সাহেদের বউ স্বামীকে না জানিয়েই একা একা হাজির হয় অন্য হাসপাতালের অন্য ডাক্তারের কাছে। তিনি তাকে দেখে নিচের টেস্ট দুটি করতে দেন,
একঃ CBC with ESR
দুইঃ CRP
CBC: Lymphopenia, Thrombocytopenia আছে।
ESR: Raised
CRP: Raised
এসব দেখে ডাক্তার দুটি সিদ্ধান্তে উপনিত হন,
একঃ Lymphopenia, Thrombocytopenia, Raised ESR, অর্থাৎ তার control এ থাকা SLE flared up হয়েছে।
দুইঃ Raised CRP, অর্থাৎ SLE তে CRP কখনোই বাড়ে না যদি না অন্য কোন infection বা inflammation থাকে। যেহেতু রোগীর জ্বর, বুকে ব্যথা আছে, তাই তার infection আছে এটা নিশ্চিত।
তিনি একটি CXR করতে দেন,
CXR: unilateral localized consolidation আছে।
সাহেদের বউয়ের বর্তমান Dx দাঁড়ালোঃ SLE (flared up) with pneumonia.
এই অবস্থায় আগের ডাক্তার রোগীর আগে থেকে চলা Prednisolone বন্ধ করে দিয়েছিলো যা ঠিক ছিল না একদম, কারণঃ
যে কোন infection existing SLE flare up করতে পারে, কারণ infection এর সময় শরীরের stress response হিসেবে steroid বেশি synthesize হয়। কিন্তু এই রোগী আগে থেকেই দীর্ঘদিন SLE এর চিকিৎসা হিসেবে Prednisolone পাওয়ায় তার hypothalamo-pituitary-adrenal axis এমনিতেই suppressed. এই অবস্থায় এই system তার শরীরে প্রয়োজনীয় endogenous steroid তৈরি করতে পারছে না।
পক্ষান্তরে, আগের ডাক্তার তার exogenous Prednisolone বন্ধ করে দেয়ায় তার প্রয়োজনীয় steroid এর ঘাটতি হয় অনেক বেশি। আর এ কারণেই এই infective condition এ steroid এর ঘাটতি হলে রোগীর হতে পারে adrenal crisis, flared up হতে পারে controlled SLE.
নতুন ডাক্তার এসব চিন্তা করে রোগীকে নিচের চিকিৎসা দিল,
একঃ বন্ধ থাকা Prednisolone শুরু করে দিলো, সেটা আগের চেয়ে বেশি dose এ। কারণ তার SLE অলরেডি flared up.
দুইঃ Prednisolone এর dose বাড়ানোর জন্য তার existing infection control এ দেরী হতে পারে, বা নতুন কোন infection এর সম্ভাবনাও বাড়তে পারে - তাই broad spectrum antibiotic দিলো।
আলহামদুলিল্লাহ, সাহেদের বউ সুস্থ এখন।
এদিকে সাহেদের অবস্থা হালুয়া টাইট! বড় বড় লোকের সাথে লেয়াজু করা তার দুই নম্বরি কাজকারবার এখন আর লোকচক্ষুর আড়ালে নেই। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রকাশ পেয়েছে তার সব ছলচাতুরী বাহাদুরি।
বেচারার কপাল খারাপ। তার হাই প্রোফাইল সুবিধাভোগী বন্ধুরা কোথায় তাকে এই বিপদের সময় সার্বিক সহযোগিতা করবে তা না, উল্টো তারা নাকি তাকে চেনেই না! তাদের সাথেই এককালে গলাগলি করা সাহেদ তাদের কাছে এখন কোথাকার কোন সাহেদ! এসব দেখে আত্মগোপনে থাকা সাহেদ মনেমনে গালি দেয়,' শালারা! বিপদেই বন্ধুর পরিচয়, বিপদে কেউ কারো নয়!'
লোকে বলে, পাপ নাকি বাপকেও ছাড়ে না। বেচারা সাহেদের বাপটা মারা গেল করোনা আক্রান্ত হয়ে। লাশ নিতেও কেউ আসেনি! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
এদিকে র্যাব পুলিশ হন্যে হয়ে সাহেদকে খুঁজছে, কিন্তু পাচ্ছে না! কি আজব কারবার!
অন্যদিকে সাহেদের বউ এসব দেখে ভয় পেয়ে 'নিজে বাঁচলে স্বামীর নাম' এই থিউরিতে ঘোষণা দিয়েছে, 'ওই শালা বাটপার, আমার সাথে কোন সম্পর্ক নাই! তারে তিন তালাক!'
ইহা একটি আলাভোলা কাল্পনিক একাডেমিক গল্প। জীবিত বা মৃত (এখনো মরেনি, এরা সহজে মরেনা, মরেনা এরকম অজস্র চুনোপুঁটির সাথে সুবিধাভোগী রাঘব বোয়ালরা, বরং সুযোগ বুঝে পাততাড়ি গুঁটিয়ে অনেকে অন্যদেশে আরামে জীবন কাঁটায়) কারো সাথে কোন মিল খুঁজে পেলে লেখক দায়ী নয়!
ডা. কাওসার
ঢামেক, কে-৬৫
